
আজ রাতে চীনের পুরুষ জাতীয় দল চংকিং আন্তর্জাতিক ফুটবল আমন্ত্রণ টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচে নামে। জয় আনতে ৫ জন শুরুর একাদশ বদলানোর পরও জাতীয় দল শেষ পর্যন্ত তাজিকিস্তানের কাছে ০-১ হারে। ৪টি প্রীতি ম্যাচে শুধু প্রথমটিতে মালদ্বীপকে ৩-০-এ হালকা জয়। বাকি ম্যাচগুলো একটার পর একটা আরও খারাপ। "বেইজিং ডেইলি" লিখেছে, জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা রক্তের লড়াই দেখাননি, ৪ ম্যাচের একটিও পাসের যোগ্য নয়।

ফিফার সর্বশেষ র্যাঙ্কিং অনুযায়ী চীন দল ৯৪তম, তাজিকিস্তান ১০১তম। এছাড়া দুই দলের মুখোমুখি ইতিহাসে জাতীয় দল ৪ জয় ও ২ ড্র নিয়ে অপরাজিত। এমন শক্তির তুলনায় জাতীয় দলের না জেতার কোনো কারণ ছিল না। তার ওপর তাঁরা ঘরের মাঠে খেলছিলেন, এবং আগের ম্যাচগুলোর পারফরম্যান্স খারাপ থাকায় দলের জরুরি দরকার ছিল একটা জয় দিয়ে নিজেদের প্রমাণ করা। তারপরও জাতীয় দল খারাপ এক উত্তরপত্র দিয়েছে। পুরো ম্যাচে শটের সংখ্যা ও বল দখল, দুই দিকেই তাঁরা প্রতিপক্ষের চেয়ে পিছিয়ে। তাজিকিস্তানের ভাগ্য আর একটু ভালো হলে এই ম্যাচে জাতীয় দল আবার বড় ব্যবধানে হারতেও পারত।
এ বছর ইউ-২৩ জাতীয় দল ও ইউ-১৭ জাতীয় দল পরপর এশিয়ান কাপে রানার্সআপ হওয়ায় চীনা ফুটবলে যেন শেষ পর্যন্ত একটু উন্নতির আলো দেখা গিয়েছিল। এই জাতীয় দল তখন এত খারাপ হয়ে গেল কীভাবে? বস্তুনিষ্ঠ কারণ অবশ্যই আছে। এশিয়ান গেমসের সূচির সঙ্গে মিলে যাওয়ায় জাতীয় দলের বড় এক অংশ মূল খেলোয়াড়কে সরিয়ে নেওয়া হয়। প্রধান কোচ শাও জিয়াই বাধ্য হয়ে অনেক নতুন মুখ ডাকেন, দলের শক্তি কমে যায়।
কিন্তু আরও বেশি করে নিজেদের ভেতরে সমস্যা খুঁজতে হবে। প্রথমত, খেলোয়াড়রা রক্তের লড়াই দেখাননি। আগের ম্যাচে জাতীয় দল ফিলিস্তিনের কাছে ০-৫ হারার পর শাও জিয়াই ম্যাচ শেষে বলেছিলেন, কোনো কোনো খেলোয়াড় তখনও লিগ ও এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগের কথা ভাবছিলেন। দলের কোচকে ম্যাচপরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এত সরাসরি এ কথা বলতে হয়, দেখেই বোঝা যায় এই ম্যাচকে খেলোয়াড়রা যথেষ্ট গুরুত্ব দেননি। যেভাবেই বলা হোক, এই আমন্ত্রণ টুর্নামেন্ট আন্তর্জাতিক এ-ম্যাচ। এটা ইচ্ছেমতো সেরে দেওয়ার ম্যাচ নয়। তৃতীয় ম্যাচের ভয়াবহ হারের পরও তাজিকিস্তানের বিপক্ষে জাতীয় দলের খেলা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। কৌশলের ভুল ও ব্যক্তিগত টেকনিকের ভুল অনেক হয়েছে। এত বড় পরিসরে এমন মৌলিক ভুল বেশ বিরল। এতে খেলোয়াড়দের ভঙ্গুর মানসিকতাই ফুটে ওঠে। জেদ, লড়াইয়ের জোর ও রক্তের টানের দেখা মেলেনি। দ্বিতীয়ার্ধে ওয়ে শিহাওয়ের লাল কার্ড খেলোয়াড়দের মানসিকতা ভেঙে পড়ারই প্রতিফলন।
দ্বিতীয়ত, কোচিং স্টাফকেও গভীর আত্মসমালোচনা করতে হবে। জাতীয় দলের চার ম্যাচের একটিও পাসের যোগ্য নয়। প্রথম ম্যাচে মালদ্বীপকে ৩-০-এ হারালেও দল নিজের থাকা উচিত শক্তি দেখায়নি। এরপর পরপর নিউজিল্যান্ড, ফিলিস্তিন ও তাজিকিস্তানের কাছে হার। দলের পারফরম্যান্স একটার পর একটা খারাপ হয়েছে। এতে বোঝা যায়, সীমিত সময়ে কোচিং স্টাফ দলকে উন্নত করতে পারেননি। শাও জিয়াইয়ের জন্য মানুষকে জড়ানো ও চিন্তায় ঐক্য আনা, এটাই প্রধান কোচের নিজের দায়িত্ব। খেলোয়াড়দের লড়াকু মনোভাব কীভাবে জ্বালাবেন, দলের আত্মবিশ্বাস কীভাবে আবার গড়বেন, হাতে থাকা লোকবলের শক্তির সঙ্গে সত্যিই মানা একটি কৌশলের কাঠামো কীভাবে বানাবেন, দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরও পূর্ণ হয়নি এমন এই তরুণ কোচের জন্য দায়িত্ব ভারী, পথও দীর্ঘ।